Search This Blog

Wednesday, April 24, 2019

স্বপনের কুড়িগ্রাম

(সংকলন)

মোঃ মাহফুজ আহমেদ।

কে বলে আমাদের কুড়িগ্রাম এর মানুষ চিন্তা ভাবনায় পিছিয়ে?আজ যে স্বপন ভাই এর কথা লিখছি এরকম আরো অনেক স্বপন ভাই আছে আমাদের কুড়িগ্রামে। একদিন তারা ঠিক ই পথ দেখাবে অন্যদের।

*********************************************

অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প ও জলবায়ু নিয়ে এক যুবকের স্বপ্ন নাম সাখাওয়াত হোসেন স্বপন। গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার এক প্রত্যন্ত  গ্রাম মংলারকুটিতে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে লেখা-পড়া করা অবস্থায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অধীনে আরবান কমিনিউনিটি ভলান্টিয়ার হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ২০১১ সালে। তারপর কম্প্রেহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম-এর প্রশিক্ষক হিসেবে পুনরায় ফায়ার সার্ভিস থেকে ‘ট্রেইনিং অব ট্রেইনার্স’ কোর্সে অংশ নেন এবং সফলতার সাথে কোর্স সম্পন্ন করে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সিডিএমপি সেলে। তাজরিন ফ্যাশনের অগ্নিকা-ে আগুন নেভানো এবং উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের সাথে ছিলেন তিনি। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের ভলান্টিয়ার লিডার হিসেবে উদ্ধার কাজেও ছিলেন সাখাওয়াত স্বপন। এরপর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউএনডিপি-চীন-এর অর্থায়নে চীনের বেইজিং-এ ‘কমিউনিটি বেজড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ইন এশিয়া’ নামক ওয়ার্কশপ করে এসেছেন। সা¤প্রতিক তিনি ‘সেফটি স্কুল’ নামে একটি সংগঠন চালু করেছেন। তার কথা অনুযায়ী সেফটি স্কুল এক ধরনের সামাজিক আন্দোলন, যার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের মধ্যে অগ্নিকা-, ভূমিকম্প ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অগ্নিকা- ও ভূমিকম্প নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স গুরু দায়িত্ব পালন করে থাকে, যেখানে তাদের কাজ করতে হয় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে। এজন্য তাদের প্রতি সবসময় দেশবাসীর সম্মান ও শ্রদ্ধা কামনা করেন তিনি। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর লোকবল যথেষ্ট নয়। লোকবল বৃদ্ধি করে স্টেশন বৃদ্ধি করা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া এখন সময়ের দাবি।      যে কোনো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পোশাক শিল্প অথবা অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন তাকে ডাকলেই তিনি চলে যান এবং কথা বলেন অগ্নিকা-, ভূমিকম্প ও জলবায়ু নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, ক্রিটিক্যালিংক, ভুলতা সমবায় মার্কেট, বছিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মডেল লাইভ স্টক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি এসব বিষয়ে ওয়ার্কশপ করিয়েছেন। নিজ জেলা কুড়িগ্রামের কয়েকটি স্কুল ও কলেজে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন। গিয়েছিলেন বলদিয়া হাই স্কুল, বলদিয়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় এবং শাহীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন অগ্নিকা-ের কারণ, অগ্নিকা-ে করণীয়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমিকম্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কথা বলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ক্লাবে। আলোচনা করেন অগ্নিকা- ও ভূমিকম্প নিয়ে। তিনি জানান, জাইকা’র গবেষণা অনুযায়ী ঢাকায় ৭ মাত্রার অধিক মাত্রায় ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে, বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হবার সম্ভাবনা রয়েছে । তাই দেশের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করে তোলা খুবই জরুরি এবং এ লক্ষ্যে তাঁর ‘সেফটি স্কুল’ কাজ করে যাচ্ছে যার স্লোগান হচ্ছে safety first, safety must, যেখানে তার সাথে কাজ করছেন প্রায় ১৫ জন প্রশিক্ষিত যুবক-যুবতী। সরকারি-বেসরকারি সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তিনি যেতে চান দেশের সব শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে, কথা বলতে চান অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প ও জলবায়ু নিয়ে। সাখাওয়াত স্বপন স্বপ্ন দেখেন একটি নিরাপদ বাংলাদেশের, তিনি বলেন তাঁর সাথে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন ইমেইল shakhawat2511@gmail.com অথবা safety school-Gi Awdwmqvj page -এ।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে নেয়া
আমি ক্লাস ফোরে তখন, নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে হুমায়ুন আহমেদের ৪২০পৃষ্ঠার কিশোর সমগ্র বইটা হাতে আসে। ওটাই প্রথম। 'বোতল ভূত' দিয়ে আমার গল্পের জগতে প্রবেশ, সাতদিনে নাওয়া-খাওয়া ভুলে ৪২০পৃষ্ঠা শেষ করেছিলাম।
আমার বইপড়া এভাবেই শুরু হয়। পাঠ্যবইয়ের প্রতি নেশা কোনকালেই ছিল না, আমি বরাবরই ব্যাকবেঞ্চের ছাত্র ছিলাম। এসএসসিতে ম্যাথে পাশ করেছি অংক মুখস্থ করে, বোঝেন তাহলে!

হাতের কাছে যা পেতাম পড়তাম, কাগজের ঠোঙা ছিড়ে ভেতরে কি লেখা পড়তাম, রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া কাগজ পর্যন্ত পড়ে ফেলতাম। সেলুনে চুল কাটতে গিয়ে সিরিয়ালে বসে থাকতে থাকতে একদিন হঠাৎ করে হাতের কাছে মাসখানেক পুরোনো একটা পত্রিকা পেলাম। সেবারই প্রথম পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করলাম, আরে বই পড়ে তো শুধু আনন্দই নয় সময়ও কাটে!!

এসব ক্লাস সিক্স-সেভেনের গল্প। আমাদের সময় ঐ বয়সে কারো হাতে টাকা থাকত না। আমার বেলাতেও তাই। এদিকে বাড়ি থেকে কড়া নির্দেশ ভাল করে পড়তে হবে, ক্লাস এইটে বৃত্তি পেতে হবে। সো বাপে সোহাগ করে বই কিনে দেবে সে সম্ভাবনাও নেই। আমার বেড়ে ওঠা তো মফস্বলে, সুতরাং মধ্য-শিক্ষিত বাবা-মা পাঠ্যবইয়ের বাইরে ছেলেকে আর কোন বই পড়তে দেয়ার কথা নয়।

অগত্যা শুরু করলাম বই চুরি করা। আপুর আর দুই মামার আর খালার বাড়ি থেকে যে পরিমাণ বই আমি চুরি করেছি তার হিসেব নাই।
আমি যখন ক্লাস এইটে, আপু তখন ডিগ্রীতে পড়ে। ডিগ্রীর সিলেবাসে কিছু বাংলা উপন্যাস, গল্প ছিল। আমি সেই বয়সেই সেসব গিলে খেয়েছি।

এভাবে বই চুরি করতে গিয়ে একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল। আমি তখন ক্লাস সেভেন অথবা এইটে পড়ি। কোন এক ব্যক্তির কাছে তার লাইব্রেরীতে অনেক অযত্নে পড়ে থাকা কিছু বই চাই। উনি বেশ আনন্দচিত্তেই আমায় বই নিতে অনুমতি দেন।
আমার পরিকল্পনা ছিল পাঁচটার কথা বলে অন্তত সাত-আটটা বই মেরে দিব, আর কোনদিন ফেরত দিব না।
আবছা আলোয় সেদিন আমি "শৃঙ্গার" নামের একটা বই মেরে দিয়েছিলাম। অত্যন্ত আকর্ষনীয় কভারের কারণে প্রথমে সেটিই শেষ করি।
আমার লেভেলটা বুঝতে পারছেন? ক্লাস সেভেন-এইটেই আমার হায়ার লেভেলের সেক্স এডুকেশন হয়ে গেছে 😂

এসএসসি পরীক্ষার সময় সবাই যখন এক নিঃশ্বাসে কয়েক পাতা করে পড়ছে,  আমি তখন এসএসসির একমাসে হলুদ হিমু কালো র‍্যাব, সাতকাহন শেষ করেছি। সেটাও অভিনব কায়দায়, ধরা পড়ার ভয়ে গল্পের বই কেটে টেস্ট পেপারের ভেতরে রেখে রেখে পড়েছি।

আমার শৈশব কেটেছে মাত্রাতিরিক্ত শাসনে। এলাকার পরিবেশ ভাল ছিল না। আমার অনেক বন্ধুরা সেসময়েই সিগারেট খেত। বিকেলে খেলতে যেতে দেয়া হত না। আব্বু-আম্মু কোথাও গেলে গেটে তালা লাগিয়ে যেত।
আমায় বাধ্য হয়ে বইয়ের জগতে ডুব দিতে হয়েছে, বই'ই আমার বন্ধু, প্রেমিকা হয়েছে।
আমি বইয়ে ডুব দিতে পারি, চরিত্রে সাথে মিশে যেতে পারি খুব সহজেই।
আব্বু-আম্মুকে ধন্যবাদ, তারা এত কড়া না হলে আমার বই পড়ার নেশা কখনই এতটা প্রবল হত না।

আমি এখন বইয়ের জগতে বাস করি। আমি ঢাকায় যে রুমটায় থাকি সেখানে তিনজন থাকার কথা, আমরা দুইজন থাকি। আমি একা দুইজনের ভাড়া দেই। কারণ আমার সাথে আমার বইয়েরাও থাকে। দেড় হাজার বই।
আমি তিনদিনের জন্য বাড়ি গেলেও আমার কাঁধে একটা ব্যাগ আর হাতে একটা ব্যাগ থাকে। হাতের ব্যাগটায় সিলেকটেড কিছু বই সবসময় থাকে। এই বইগুলো ছাড়া আমার ঘুম আসে না।
আমি বেড়াতে গেলেও আমি বই সাথে নিয়ে যাই।

আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে বর্তমান জীবনে যারা আমার ভাই-বন্ধু, আত্মার আত্মীয় হয়ে উঠেছেন তাদের প্রত্যেকের সাথে আমার সম্পর্ক শুরুই হয়েছে বই দিয়ে।
আমাদের প্রতিটি আলাপে কোথাও না কোথাও পড়াশুনা থাকেই। তাদের সাথে একদিন আড্ডা দেয়া মানে পেটভর্তি জ্ঞান নিয়ে ঘরে ফেরা।
তাদের কেউ গনহত্যা, কেউ মুক্তিযুদ্ধ, কেউ পৃথিবীর বহুবিধ ধর্ম নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেন।
বইমেলা আসা মানে আমাদের ঈদ চলে আসা।

আজ বিশ্ব বই দিবস।
আরিফ রহমান ভাই তার বই দিবসের পোস্টে আমায় ট্যাগ করে বইপড়া নিয়ে অভিজ্ঞতা লিখতে বললেন।
আমি লিখতে বসে দেখলাম কয়েকটা পার্ট লেখা যাবে। শেষ হবে না।

আপনিও লিখুন। আপনার পাঠক হয়ে ওঠার গল্প। আমি ১০জন বন্ধুকে ট্যাগ দিচ্ছি, যারা বই পড়েন। আপনারা নিজেদের পাঠক হয়ে ওঠার গল্প নিজ নিজ ওয়ালে পোস্ট করুন।

Monday, April 15, 2019

জরুরী কিছু তথ্য

রডের ওজন
মোঃ মাহফুজ আহমেদ।
৮ মিলি মিটার এক ফুট রডের ওজন = ০.১২০ কেজি।
১০ মিলি মিটার এক ফুট রডের ওজন = ০.১৮৮ কেজি।
১২ মিলি মিটার এক ফুট রডের ওজন = ০.২৭০৬ কেজি।
১৬ মিলি মিটার এক ফুট রডের ওজন = ০.৪৮১২ কেজি।
২০ মিলি মিটার এক ফুট রডের ওজন = ০.৭৫১৮ কেজি।
২২ মিলি মিটার এক ফুট রডের ওজন = ০.৯০৯৭ কেজি।
২৫ মিলি মিটার এক ফুট রডের ওজন =১.১৭৪৭ কেজি।
উপরে যে কনভার্ট সিস্টেম দেয়া হয়েছে, এর প্রতিটি যদি আপনার জানা থাকে তাহলে বাস্তবে কাজ করা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।যেমন, ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেমে রডের আন্তর্জাতিক হিসাব করা হয় kg/m এ।আবার বাংলাদেশে সাধারন লেবারদের সাথে কাজ করার সময় এই হিসাব জানা একান্তই
জরুরী এছাড়া ও নিম্নোক্ত বিষয় টিও জেনে রাখুন . . . .
8 mm -7 feet -1 kg
10 mm -5 feet -1 kg
12 mm -3.75 feet – 1 kg
16 mm -2.15feet -1kg
20 mm -1.80feet -1kg
22mm -1.1feet -1kg
রডের মাপ ফিট মেপে kg বের করা হয় ………
এই সুত্রটি মনে রাখুন ( রডের ডায়া^2 / 531,36 ) যেকোনো ডায়া রডের এক ফিটের ওজন বাহির হবে . এখানে অবশ্যই রডের ডায়া মিলি মিটারে উল্লেখ করতে হবে।

Thursday, March 28, 2019

এফ আর টাওয়ারে আগুন এবং আমাদের সচেতনতা

সংগ্রহ :
মোঃ মাহফুজ আহমেদ।



দুপুর ১.৩০ টার এর দিকে সুমন পাটোয়ারী ( Sumu Ahamed) ভাই ফায়ার সার্ভিস ভলান্টিয়ার গ্রুপে খবর দিলেন বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লেগেছে। তার কিছুক্ষণের মধ্যে বন্ধু আরিফ জানালো আমাদের এক বান্ধবীও ঐ বিল্ডিং এ আটকা পড়ে আছে।

আমি যেহেতু আরবান কমিউনিটি ভলান্টিয়ার, কম্প্রেহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম এর প্রশিক্ষক সুতরাং
তারাহুরো করে বের হলাম, স্পটে চলে গেলাম। ভয়াবহ অগ্নিকান্ড! কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে মোবাইলে ছবি তোলা আর ভিডিও করা অবস্থায় উৎসুক জনতার।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না, সিটি কর্পোরেশনের পানির গাড়ি প্রবেশ করার মতো জায়গা পায় না, আর পাব্লিক আছে তামাশা দেখতে। পুলিশের গরম পানি আর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে জনতার ভীড় কমাতে হবে, তাই না?

ভবনে জরুরী নির্গমনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। জানালা অথবা করিডর নেই যা ব্যবহার করে ভবনের বাইরে দিয়ে নামার সুযোগ থাকবে। ভবনের নিজস্ব  অগ্নিনির্বাপন করার মতো যথেষ্ট সামর্থ্য নেই। রাজউকের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ করা। এসব নানান অসঙ্গতির ফল হচ্ছে বনানীর এতো বড় দুর্ঘটনা।

এবার নিজের কথা ভাবেন।
ভাই আপনি কি আপনার পাশের ফায়ার স্টেশনের নাম্বার জানেন? আপনার বাসায় অথবা অফিসে আগুন লেগেছে তা কি ফায়ার সার্ভিস জানে? আরে ভাই আপনার দায়িত্ব হচ্ছে আগুন বিস্তৃতি লাভের আগেই তা নিভানো এবং আপনার আওতার বাইরে যাওয়ার আগেই ফায়ার সার্ভিসকে জানানো। আমরা ক'জন জানি এটা?

আসুন সচেতন হই, প্রশিক্ষিত হই। অন্তত পক্ষে কাজ করতে না পারলেও কাজের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করি।


সাখাওয়াত স্বপন
নির্বাহী পরিচালক, Safety School

Saturday, March 16, 2019

কুড়িগ্রামবাসী শোকাহত

মোঃ মাহফুজ আহমেদ।

প্রফেসর ডঃ মোঃ আব্দুস সামাদ স্যার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে ৬০ বৎসর বয়সে কৃষিতত্ত্ব (Agronomy) বিভাগ থেকে অবসরে যান।
তার বাড়ি কুড়িগ্রামের,ফুলবাড়ী উপজেলায়। উচ্চশিক্ষার্থে বেশ কয়েকবার নিউজিল্যান্ডে থাকার সুবাদে স্যার এর পরিবার নিউজিল্যান্ডেই থাকতো। তিনিও অবসরের পর নিউজিল্যান্ডে চলে যান।

আজ নিউজিল্যান্ড এর ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বর্বরোচিত হামলায় তিনি নিহত হন। মৃত্যুকালে তিনি ক্রাইস্টচার্চে লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

Sunday, March 3, 2019

ভালবাসা ভাল থাকুক অন্যের ঘরে।

মোঃ মাহফুজ আহমেদ।


ভালবাসা ভাল থাকুক  অন্যের ঘরে।
ভাল থাকুক সবকিছু সাইট থেকে ব্লক করা,ভালবাসার মানুষগুলো।  ভালবেসে না পেলে ভালবাসার শেষ নয়।
ভালবাসার মানুষ কে সুখি দেখে নিজের দুঃখগুলো ভুলে যাওয়ার নামই হয়ত ভালবাসা। ভালবাসা সব সময় প্রিয় মানুষটির কাছেই রয়ে যায়। যেমন থাকে আপনার মনে। ভালবাসার মানুষগুলোর জন্য দোয়া থাকে মনের অন্তস্থঃতল থেকে।
ক্ষমা করে দিও তোমার হতে পারলাম বলে দিন, যদি দেখা হয় চলার পথে।
-----------অভিমানি ভালবাসা। 

Saturday, March 2, 2019

একটা বিল্ডিং এর সকল কাজের অনুপাত


1. Structure = 35%
2. Brick work = 6%
3. Wood work = 5%
4. Metal work = 2%
5.Plumbing and Sanitary = 6%
6. Electrical work = 7%
7. Plaster work = 4%
8. General Floor Tiles work = 6%
9. Toilet & Kit wall Tiles work = 3%
10. Aluminium work = 4%
11. EME (Lift, Generator, Substation) = 10%
12. Paint work = 3%
13. Others civil work = 6%
14. Utility connection & Bill = 3%
Total = 100%

STRUCTURE 35%
- Footing & Column Padestal = 20%
- Grade Beam, UGWR top Slab = 5%
- GF Column, Stair etc = 4%
- 1st Floor Slab = 9%
- Typical Floor Column (5x3%) = 15%
- 2nd floor slab to roof slab (5x8) = 40%
- Roof top = 7%
TOTAL = 100% (৩৫% যেভাবে আসবে।)

BRICK WORK 6%
- GF Brick work = 6%
- 1st floor Brick work = 18%
- 2nd floor Brick work = 18%
- 3rd floor Brick work = 18%
- 4th floor Brick work = 18%
- 5th floor Brick work = 18%
-Roof Top Brick work = 4%
TOTAL = 100% (৬% যেভাবে হবে।)

WOOD WORK 5%
- Door frame = 40%
- Main Door Shutter = 15%
- Partex Door Shutter = 35%
- Cat Door & Accessories = 10%
TOTAL = 100% (৫% যেভাবে হবে।)

METAL WORK 2%
- Window grill = 55%
- Verandah Railling = 20%
- Stair Railling = 10%
- Main gate, Gen-Sub, safety grill = 15%
TOTAL = 100% (২% যেভাবে হবে।)

PLAMBING & SANITARY 6%
- uPVC vertical line thru duct = 25%
- GI line work = 30%
- Fixture & Fittings = 40%
- Ground Floor = 5%
TOTAL = 100% (৬% যেভাবে হবে।)

ELECTRICAL - 7%
- Conduiting inside slab = 10%
- Conduiting on wall i/c MK box=15%
- Cabling work = 55%
- Switch-Socket = 20%
TOTAL = 100% (৭% যেভাবে হবে।)

PLASTER 4%
- Ceiling plaster = 20%
- Internal wall plaster = 50%
- Outside plaster/facing bricks = 30%
TOTAL = 100% (৪% যেভাবে হবে।)

GENERAL FLOOR TILES 6%
- General floor & Verandah = 75%
- Stair, typical lobby & lift wall = 20%
- GF lift lobby, wall, reception = 5%
TOTAL = 100% (৬% যেভাবে হবে।)

TOILET & KIT WALL TILES = 3%
- Bath wall = 60%
- Kitchen wall = 20%
- Bath floor = 9%
- Bath counter top = 4%
- Kitchen floor = 3%
- Kitchen counter top =4%
TOTAL = 100% (৩% যেভাবে হবে।)

ALUMINIUM WORK 4%
- Outer framing-window sliding= 40%
- Glass shutter-window sliding = 30%
- Verandah sliding = 20%
- Toilet high window = 5%
- Comnon area = 5%
TOTAL = 100% (৪% যেভাবে হবে।)

EME 10%
- Lift = 50%
- Generator = 25%
- Substation = 20%
- PABX, Fire extinguisher etc = 5%
TOTAL = 100% (১০% যেভাবে হবে।)

PAINT WORK = 3%
- Upto putty = 40%
- Internal wall&ceiling 1st coat= 20%
- Internal wall&ceiling 2nd coat= 15%
- Outside paint/ceramic Tites = 25%
TOTAL = 100% (৩% যেভাবে হবে।)

OTHERS CIVIL WORK = 6%
- Boundary wall = 30%
- Line terracing/Roof top paver= 15%
- LOGO, Gardening & others = 4%
- GF BBC = 14%
- GF pavement & footpath dev = 10%
- Lintel, F/slab, drop wall, counter slab = 20%
- Cable tray = 1%
- Sanitary duct cover, ceiling etc= 4%
- Reception desk, letter box = 2%
TOTAL = 100% (৬% যেভাবে হবে।)

UTILITY CONNECTION & BILL = 3%
- DESA/DESCO = 35%
- TITAS = 20
- WASA = 15%
- Utility bills = 30%
TOTAL = 100% (৩% যেভাবে হবে।)

সংগৃহীত 

Wednesday, February 27, 2019

বাংলার ইতিকথা!

মোঃ মাহফুজ আহমেদ


বাংলার নবজাগরণ বলতে বোঝায় ব্রিটিশ রাজত্বেরসময় অবিভক্ত ভারতের বাংলা অঞ্চলে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে সমাজ সংস্কার আন্দোলনের জোয়ার ও বহু কৃতি মনীষীর আবির্ভাবকে। মূলত রাজা রামমোহন রায়ের (১৭৭৫-১৮৩৩) সময় এই নবজাগরণের শুরু এবং এর শেষ ধরা হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) সময়ে, যদিও এর পরেও বহু জ্ঞানীগুণী মানুষ এই সৃজনশীলতা ও শিক্ষাদীক্ষার জোয়ারের বিভিন্ন ধারার ধারক ও বাহক হিসাবে পরিচিত হয়েছেন। ঊনবিংশ শতকের বাংলা ছিল সমাজ সংস্কার, ধর্মীয় দর্শনচিন্তা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, দেশপ্রেম, ও বিজ্ঞানের পথিকৃৎদের এক অন্যন্য সমাহার যা মধ্যযুগের অন্ত ঘটিয়ে এদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করে।

পটভূমিকা সম্পাদনা
বাংলার নবজাগরণ অনেক আধুনিক পণ্ডিতের মতে উনিশ শতকের গোড়ার দিকে, আবার অনেকের মতে গোটা উনিশ শতক জুড়েই বাংলায় বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ চলে যাকে যথার্থই ইউরোপীয় ধারার নবজাগরণ বলা যায়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, ব্রিটিশ শাসনের প্রভাবে বাংলার শিক্ষিত সম্প্রদায় জীবন ও বিশ্বাসের নানা বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু হয়ে ওঠে এবং প্রশ্ন তুলতে শেখে। বলা হয়, এ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বাংলার সমসাময়িক জীবনধারাকে বস্তুতান্ত্রিকভাবে সবিশেষ প্রভাবিত করে। বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক আন্দোলন, নানা সংগঠন, সমাজ ও সমিতি গঠন, ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, নতুন শৈলীর বাংলা সাহিত্যের আবির্ভাব, রাজনৈতিক চেতনা এবং আরও উদীয়মান অন্যান্য সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয় এক নবজাগরণরই ইতিবাচক লক্ষণ বলে যুক্তি দেখানো হয়। নবজাগরণ তত্ত্বের প্রবক্তাদের মতে, এসব বিষয়ের মূলে ছিল ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে নবার্জিত ইউরোপীয় জ্ঞান (বিশেষ করে, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও সাহিত্য)। এ কথিত নবজাগরণ কেবলমাত্র বাংলার হিন্দু সমাজের উঁচু স্তরের সামান্য অংশকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করলেও শেষাবধি তা মুসলিম সমাজ (অনেকটাই অংশত) ও অন্যদের মাঝেও প্রসার লাভ করে। নবজাগরণ ছড়িয়ে যায় ঐ শতকের শেষপাদে উপমহাদেশের অন্যসব অংশেও।
সভা ও বহু সমিতিসম্পাদনা
নবজাগরণ ভাবাপন্ন ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রামমোহন রায় , এইচ.এল.ভি ডিরোজিও ও তাঁর বিপ্লবী শিষ্যবৃন্দ, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর অনুসারীগণ, অক্ষয়কুমার দত্ত , ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , মাইকেল মধুসূদন দত্ত , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রেসেসাঁর এ নিবেদিত মনীষীবর্গ যেসব পাশ্চাত্য চিন্তাধারায় উজ্জীবিত হয়েছিলেন তা ছিল যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ, উপযোগবাদ, বিজ্ঞানবাদ, ব্যক্তিবাদ, দৃষ্টবাদ, ডারউইনবাদ, সমাজবাদ ও জাতীয়তাবাদ। পুনরুজ্জীবিত বাংলার চিন্তাবিদগণ ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১-১৬২৬), আইজ্যাক নিউটন(১৬৪২-১৭২৭), জেরেমি বেনথাম (১৭৪৮-১৮৩২), টমাস পেইন (১৭৩৭-১৮০৯), অগুস্ত কোঁত(১৭৯৮-১৮৫৭), চার্লস ডারউইন (১৮০৯-৮২) ও জন স্টুয়ার্ট মিল-এর (১৬০৬-৭৩) মতো পাশ্চাত্যের আরও অনেক আধুনিক চিন্তাবিদ ও মনীষীর গুণগ্রাহী ও অনুসারী হয়ে ওঠেন। এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল (প্রতিষ্ঠিত, ১৭৮৪), শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন (১৮০০), ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০), হিন্দু কলেজ (১৮১৭), ক্যালকাটা স্কুল-বুক সোসাইটি(১৮১৭), কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (১৮৩৫), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর (১৮৫৭) মতো প্রতিষ্ঠানগুলি বাংলার নবজাগরণে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে।
বাংলার নবজাগরণ দুই ধারায় প্রসার লাভ করে যথা, (১) ঐ সময়ে বহু সংখ্যক সংবাদপত্র ও সাময়িকী প্রকাশিত হয় এবং (২) বহু সমিতি, সংগঠন ও সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এগুলি পর্যায়ক্রমে নবজাগরণর দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন সংলাপ ও বিতর্কের মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। তবে নবজাগরণের সবচেয়ে দর্শনীয় বহিঃপ্রকাশ ঘটে কতকগুলি সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এসব আন্দোলন ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক। নবজাগরণর আরও বড় ধরনের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় যুক্তিভিত্তিক মুক্তচিন্তার সপক্ষে পরিচালিত ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উন্মেষ, পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ধ্যান-ধারণার প্রসার ও বিভিন্নমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানানুসন্ধান এ সবই ছিল নবজাগরণর সুফল। বাংলার নবজাগরণ বা নবজাগরণের ফলে জাতীয়তাবাদ জাগ্রত হয় এবং পরবর্তী সময়ে এ জাতীয়তাবাদ দেশের পরাধীনতার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
রামমোহন রায় একাধারে সংস্কৃত, আরবি, ফার্সিভাষায় সুপণ্ডিত এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতিবাদে তুহফাত-উল-মুওয়াহহিদিন [একেশ্বরবাদীদের উপহার] নামে এক যুক্তিবাদী পুস্তিকা (১৮০৩-০৪) প্রকাশ করেন। পরবর্তীসময়ে তিনি সেমেটিক একেশ্বরবাদের ধারায় উপযোগবাদের সাথে যুক্তিবাদ সংযুক্ত এবং সামাজিক অন্যায় ও বুদ্ধিবৃত্তিক কূপমণ্ডূকতা দূর করার লক্ষ্যে একটি কার্যক্রম গ্রহণ করেন। হিন্দু ও খ্রিষ্টানদের সঙ্গে দীর্ঘ পনেরো বছরের (১৮১৫-৩০) এক বিতর্কে তিনি তাঁর ব্রাহ্ম একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে বাহ্যত বহুঈশ্বরবাদ ও ত্রিত্ববাদকে পরাভূত করেন। তিনি সমাজিক বিচার, বিশেষ করে হিন্দু নারীমুক্তির জন্য সুদীর্ঘ শতাব্দীকালের সংগ্রামেরও সূচনা করেন। গভর্নর জেনারেল উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক এর ঔপনিবেশিক সরকার ১৮২৯ সালে স্বামীর সাথে হিন্দু নারীর সহমরণ তথা সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। রামমোহন রায় এ বিষয়ে সরকারের আইন পাসে সহায়তা করেন। রামমোহন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেন এবং পাশ্চাত্য শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ ও বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা নীতি প্রবর্তনের সুপারিশ করেন।
যুক্তিবাদসম্পাদনা
ফলত ব্রাহ্ম সমাজ বলয় থেকে দত্তের বহিষ্পারের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যময় এ সংঘাতের অবসান ঘটে। অজ্ঞেয়বাদী হয়ে ওঠার পর অক্ষয়কুমার দত্তযুক্তিবাদ, বস্তুনিষ্ঠতা ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে ভারতীয় ধর্ম ও দর্শনের ইতিহাস বিশ্লেষণের প্রয়াস পান। উনিশ শতকের বাংলায় নবজাগৃতির অধিকারী বহু সুধীব্যক্তির জীবন ও কর্মে এ লক্ষণসমূহ ফুটে ওঠে। তবে বিদ্যাসাগর অজ্ঞেয়তাবাদী (একধরনের নাস্তিকও বলা যায়) থেকে যান এবং তাঁর সফল হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলনের (১৮৫৫-৫৬) ফলে ১৮৫৬ সালে প্রণীত আইনের (যা হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করে) পরে তিনি ষাটের দশকে কুলীন ব্রাহ্মণদের বহুবিবাহের বিরুদ্ধে আরও একটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে এবং স্ত্রীশিক্ষার প্রসারেও তাঁর প্রচেষ্টার সাফল্য শুধু উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল মহল দ্বারাই বিঘ্নিত হয় নি, বরং এর পেছনে আরও কাজ করেছে ঔপনিবেশিক সরকারের সহযোগিতা না করার দৃষ্টিভঙ্গি। ডিরোজিও ও তাঁর অনুসারিগণ এবং অক্ষয় কুমার ও বিদ্যাসাগর সকলে মিলে যে সংশয়বাদী-অজ্ঞেয়তাবাদী-নাস্তিক্যবাদী ঐতিহ্য গড়ে তুলেছিলেন, তার পরিণত রূপ দেন প্রত্যক্ষবাদী নাস্তিক কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য(১৮৪০-১৯৩২)। ইতিহাসের পটভূমিকায় বিচার করলে এ ঘটনাপ্রবাহের তাৎপর্য অনেক। কারণ, খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতকের নাস্তিক চিন্তাবিদ জয়রাশি ভট্টের সুদীর্ঘকাল পরে এই প্রতিবাদীরাই প্রথমবারের মতো ভারতীয় বস্তুবাদের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলেন।
বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমার দুজনে মিলে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের পণ্ডিতবর্গ, শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট চার্চের কোন কোন মিশনারি এবং রামমোহন রায় ও তাঁর বিরোধীদের গড়া ভিত্তির ওপর আধুনিক বাংলা গদ্যের সৌধ গড়ে তোলেন। তারপর সেই গদ্য প্যারীচাঁদ মিত্র , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের রচনার মধ্য দিয়ে নানা আকারে বিকশিত ও সমৃদ্ধ হয়। কাব্য ও নাটকে প্রতিমা-পূজা বিরোধী এবং ভাবের দিক থেকে ডিরোজিওপন্থী মাইকেল মধুসূদন দত্ত রীতি ভেঙে অমিত্রাক্ষর ছন্দ, চতুর্দশপদী বা সনেট, ব্যক্তিবাদ, জড়পার্থিবতা, দেশপ্রেমিকতা, নারীচরিত্রের প্রাধান্য ও নাটকে তীক্ষ্ম, তীব্র সংঘাতের উপাদানের প্রবর্তন করেন। তাঁর রীতির অনুসরণে অচিরেই বহু নাট্যকার ও অপেক্ষাকৃত নিম্ন মানের কবির আবির্ভাব ঘটে। সাহিত্য পরিমণ্ডলের কথা ছেড়ে দিলেও বিজ্ঞান, ইতিহাস ও দর্শনের ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেন মধুসূদন গুপ্ত,মহেন্দ্রলাল সরকার,জগদীশ চন্দ্র বসু , প্রফুল্লচন্দ্র রায় , রাজেন্দ্রলাল মিত্র , রমেশচন্দ্র দত্ত , দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য্য। মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন প্রথম হিন্দু যিনি শবব্যবচ্ছেদ করেন। ভাই গিরিশচন্দ্র সেন ইসলামি বিষয়ে জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত হন। তিনি ইসলামি ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে বহু সংখ্যক গ্রন্থ ও জীবনী রচনা করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে গৌরবময় জীবনকর্ম হলো পবিত্র কুরআনের সটীক বাংলা অনুবাদ (১৮৮৬)। বাংলা ভাষায় এ ধরনের কাজ তিনিই প্রথম করেন। নবজাগরণর আরেক বৈশিষ্ট্যময় চরিত্র হলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। ফরাসি বুদ্ধিবৃত্তিক নবজাগরণ যুগের দার্শনিকদের মতো বাংলার নবজাগরণয় তিনি ও অন্যান্য বিদ্বৎজন ছিলেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শৌখিন অনুসন্ধানী, ঠিক জ্ঞানের কোন সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একান্তভাবে নিবেদিত বিশারদ নন। তাঁরা বস্তুত জ্ঞানচর্চার নানা ক্ষেত্রে এভাবেই কাজ করেন। রাজেন্দ্রলাল মিত্রের বিবিধার্থসংগ্রহ (১৮৫০-এর দশক) ও রহস্যসন্দর্ভ (১৮৬০-এর দশক) এবং বঙ্কিমচন্দ্রের বঙ্গদর্শন (১৮৭০-এর দশক) আর সেই সাথে এ ধরনের আরও অনেক কাজ উল্লিখিত অভিমত বা পর্যবেক্ষণেরই সাক্ষ্য।
প্রকৃতপক্ষে বাংলার নবজাগরণ যুগের স্থিতিকাল ছিল উনিশ শতকের প্রথম ছয় দশক। এ কালপরিক্রমায় মূল চালিকাশক্তি বা প্রেরণা হিসেবে কাজ করে যুক্তিবাদ আর এর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সংস্কার। সংস্কারকদের সাধারণ লক্ষ্য ছিল হিন্দুত্বের কতকগুলি বিষয়। নবজাগরণর শেষ চার দশক জুড়ে প্রাধান্য ছিল জাতীয়তাবাদের, উদ্দেশ্য ছিল পুনর্জাগরণ সৃষ্টি করা এবং নির্ধারিত বিপক্ষ ছিল কায়েমি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ। যুক্তিবাদীরা তখন থেকে পরাধীনতা ও আধিপত্যের বিষয়টির প্রতি নীরব থাকতে পারেন নি। কালো আইন পাস (আদালতের ভারতীয় বিচারকগণ মামলায় শ্বেতাঙ্গ বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করতে পারতেন না, এ বৈষম্যমূলক রীতি অবসানের জন্য ঐ সময়ে এক আইনের প্রস্তাব করা হয়) সংক্রান্ত বিতর্ক, সিপাহি বিপ্লব (১৮৫৭-৫৮) ও নীলবিদ্রোহের (১৮৫৯-৬০) মতো ঘটনাপ্রবাহ চিন্তাশীল বাঙালি মানসকে জাতীয়তাবাদী পথে পরিচালিত হতে উদ্বুদ্ধ করে। ষাটের দশকে এ ধরনের চিন্তাধারায় যাঁরা প্রথম আকৃষ্ট হন তাঁদের মধ্যে ছিলেন নবগোপাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর পুত্রকন্যাগণের মতো ব্রাহ্ম সমাজের কিছু লোক, যাঁরা হিন্দু মেলা (১৮৬৭-৮১) ও ‘হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব’ (১৮৭২) শীর্ষক আলোচনাসভার মাধ্যমে হিন্দু জাতীয়তাবাদের সূচনা করেন। তাঁদের এ প্রয়াসের ফলে নব্যহিন্দুত্ববাদ নামে পরিচিত এক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল চিরায়ত হিন্দু রচনাগুলির পুনঃসমালোচনাধর্মী পর্যালোচনা-মূল্যায়ন এবং সেই সাথে ইউরোপীয় বিজ্ঞানের উপলব্ধির মাধ্যমে হিন্দুধর্মের পুনরুজ্জীবন। এ নব্য হিন্দুত্ববাদের প্রবক্তারা হলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ ও ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়। ব্রাহ্ম ও খ্রিষ্টান একেশ্বরবাদকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নব্য হিন্দুত্ববাদী তাত্ত্বিকেরা সর্বেশ্বরবাদী যুক্তির অবতারণা করে হিন্দুধর্মের সামাজিক সংস্কারবাদ প্রত্যাখ্যান করেন আর তার পরিবর্তে তাঁরা শিক্ষা, সমাজ সেবা, আর্থ-রাজনৈতিক তৎপরতা ও সেই সাথে নানারকমের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে হিন্দুধর্মের সনাতন ও মৌলিক ধ্যান-ধারণা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন তথা বিকাশের আদর্শ সমর্থনে এগিয়ে আসেন। তাঁরা সাধারণভাবে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বাধীনতার ধারণায় উৎসাহ জোগান এবং মাতৃভূমিকে মাতৃদেবীরূপে কল্পনা করেন। এই হিন্দু জাতীয়তাবাদ পরবর্তীকালে অধিকতর যুক্তিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জন্য পথ ছেড়ে দেয়। আর এই ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ তার আকার নেয় ইন্ডিয়া লীগ (১৮৫৭), ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন(১৮৭৬), ন্যাশনাল কনফারেন্স (১৮৮৩) ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর(১৮৮৫) মাধ্যমে।
নব্যহিন্দু ও জাতীয়তাবাদী আবেগের অস্তিত্ব সত্ত্বেও নবজাগরণর মূল প্রেরণা বিলুপ্ত হয় নি। বরং এ প্রেরণা নতুন এক ভিত্তিভূমি লাভ করে মুসলিম আর্থ-সামাজিক সমস্যার বিষয়ে যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার দেলোয়ার হোসায়েন , সামাজিক বিষয়ের সমালোচক মীর মোশাররফ হোসেন এবং লেখক, শিক্ষাবিদ ও মুসলিম নারীমুক্তির জন্য সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-এর মতো মুসলিম পথিকৃৎ মনীষীদের মাঝে। এ শতকের শেষ নাগাদ এই পুনরুজ্জীবিত চেতনার প্রেরণা উপমহাদেশের আরও বহুস্থানে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
বহু আধুনিক কালোত্তর বিদ্বৎজনের মতে বাংলার প্রেক্ষাপটে ‘নবজাগরণ’ এ পারিভাষিক শব্দটির প্রয়োগ যথার্থ হয় নি। এর সমর্থনে তাঁরা যুক্তি দেখান যে, এর উদ্ভব ঘটে তৎকালীন ঔপনিবেশিক সরকারের প্রশাসনিক ও শিক্ষা সম্পর্কিত কিছু উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে। সকল ব্যবস্থা অত্যন্ত সচেতন ও পরিকল্পিতভাবেই নেওয়া হয় যাতে এক বিশেষ সমাজ গড়ে ওঠে, যা ঐ উনিশ শতকেই লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য এ শ্রেণীর আকার-আয়তন ছিল খুবই ছোট আর তা ছিল শহুরে উঁচুতলার হিন্দুদের মাঝেই সীমিত। এ শ্রেণীর চিন্তা-ভাবনা ও কার্যকলাপ বাংলার বৃহত্তর জনসমাজে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে নি, এমনকি বলতে গেলে কোন প্রভাবই পড়ে নি। মুসলিম সমাজ এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি বাইরেই থেকে যায়। আর পল্লীজনপদের হিন্দু সমাজের ক্ষেত্রেও সেই একই কথা বলা চলে।
ইউরোপের নবজাগরণের থেকে পার্থক্যসম্পাদনা
নবজাগরণ শব্দটি পশ্চিমের ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত;- কার্যত ঐতিহাসিকরা শব্দটি ধার করে এদেশের একটি বিশেষ কালপর্বের বর্ণনায় ব্যবহার করেছেন। বস্তুত: ইয়োরোপের ক্ষেত্রে নবজাগরণ শব্দটি ব্যবহৃত হয় না, ব্যবহৃত হয় রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণ শব্দটি। অর্থাৎ ইয়োরোপের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে জাগরণের পর এসেছে অন্ধকার যুগ, তারপর এসেছে রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণ, ভারতের ক্ষেত্রে এই ক্রম প্রযোজ্য নয়। ভারতের ক্ষেত্রে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে যে জ্ঞানালোকিত মণীষার উন্মেষ প্রত্যক্ষ হয় তাই ইয়োরোপীয় রেনেসাঁর তূল্যমূল্যে বিবেচিত হয়েছে।

সূর্য ডোবার খেলা

 সূর্য   ডোবার খেলা  এস_আর_শহীদ সাগর আকাশ মিলেছে যেখানে  রং ধনু সাত রং খুঁজে পাই সেখানে।।  সূর্য ডোবার খেলা দেখি দু'নয়নে কি দারুণ সুখে ন...